Skip to main content

পোশাক



মৃত্তিকা নাথ মুখোপাধ্যায় ।

কথায় বলে , donot judge a book by its cover.

______ অর্থাৎ খোলস দেখে ভিতর বিচার কোরোনা ।মানুষের 

পোশাক দেখে , মনুষ্যত্বের পরিমাপ কোরোনা।

কিন্তু সবসময় আমরা তাই ই করি ।

গলায় টেথেস্কোপ থাকলেই সেই মানুষ ডাক্তার ।অফিস আয়র্সে 

লোকাল ট্রেনে দুই ব্যাগ সমেত মহিলা মানেই স্কুল দিদিমণি।

কপালে তিলক , গলায় রুদ্রাক্ষ মানেই ত্রিকালজ্ঞ জ্যোতিষ । 

উস্ক খুস্ক চুল , পায়জামা - পাঞ্জাবি পরা , ঝোলা ব্যাগের মানুষ 

হলেন কবি ।

এমনকি যাকে ভিক্ষে দি , দেখেনি তার চেহারা ও পোশাক ঠিক 

কত টা মলিন ।

বিখ্যাত বলিউড চলচিত্র Three Idiots এ জেনে ছিলাম, 

ইউনিফর্ম কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ইউনিফর্ম যদি বিয়ে বাড়ির হয় 

বিনা নিমন্ত্রণে , কোনো গিফ্ট না দিয়েও খেয়ে আসা যায় । 

বর পক্ষ জিজ্ঞেস করলে -----------বলতে হবে কনে পক্ষের , 

আর কনেপক্ষ কে বলতে হবে বরপক্ষের । (খেয়াল রাখতে হবে 

দু পক্ষ একসাথে না চেপে ধরে।) 

এ তো গেলো রসিকতা । কিন্তু যে অত্যন্ত মূল্যবান তথ্য টা পাওয়া 

যায় এই সিনেমা থেকে,সেটা হলো, যে শিখতে চাইবে কিছু , কোনো ক্লাস 

থেকে, সে শুধু সঠিক ইউনিফর্ম পড়ে কোনো ক্লাসে বসে যাবে ,

বাকিটা আপনা থেকেই হয়ে যাবে ।

পোশাক সবার আছে। ছাত্রের পোশাক আছে । কর্পোরেট কর্মী

দের পোশাক আছে ।চোরের পোশাক আছে। পুলিশের পোশাক 

আছে ।---------সবার পোশাক আছে । 

যে মেয়েটি রোজ একঘেয়ে পোশাকে বাড়ির বাইরে যায় , সে 

সরকারী স্কুলে পড়ায় বলে , তার ও তো একদিন বিমান সেবিকার 

মতো ঝাক্কাস করে সেজে বেরোতে ইচ্ছে করে ।আর যে 

বিমান সেবিকা , মডেল , অভিনেতা -অভিনেত্রী রোজ পরাধীনতা 

র সাজ পোশাক করে ক্লান্ত , তার ও একদিন ইচ্ছে করতেই পারে

খুব সাধারণ ভাবে প্রকাশিত হতে ।

পোশাকি সভ্যতায় ইচ্ছের কোনো দাম নেই।

কাজের ক্ষেত্রে র কথা বাদ ই দিলাম । ব্যক্তি জীবনেও ব্যক্তি-

স্বাধীনতা র কোনো দাম নেই । আজ ও মানুষ তার নর্মাল 

কমফোর্ট অনুযায়ী পোশাক পরতে পারেন না । আজ ও বলা

হয় ও ভাবা হয় ধর্ষণের জন্য পোশাক ই দায়ি । 

হাহ। স্বল্প পোশাক পরে কোনো সুপুরুষ কোথাও দাঁড়িয়ে আছেন ,

আর তাকে দেখে নিজেকে সামলাতে না পেরে তার গায়ে কোনো 

মেয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে , এমন কথা কোথাও কেউ শোনেনি ।

শিশুরা কেনো ধর্ষণের শিকার হয় , এর উত্তর ও পোশাকের 

জ্যাঠা -জ্যাঠি রা দিতে পারেন না ।

পোশাক বিতর্কে রোজ কত মেয়ে লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছে।

আর এটা ও ঠিক , কিছু মেয়ে অযাচিত ভাবে বিতর্কে জড়িয়ে 

যাচ্ছে , এই পোশাক নিয়েই ।

পোশাক আপাত দৃষ্টিতে অতি মামুলি বিষয় হলেও , এর তাৎপর্য 

ও গভীরতা ব্যাপক বিস্তৃত ।

প্রত্যেক জীবিকা তেই এমন একটি দিন দেয়া উচিৎ,যেদিন

প্রত্যেক কর্মী তার নিজের পছন্দসয়ি পোশাক পরে আসতে 

পারবে কর্মস্থলে।

প্রত্যেক বাড়িতে অন্তত , স্বাধীনতা থাকা উচিৎ যে বাড়িতে যেনো

সদস্য রা নিজের মত অনুযায়ী পোশাক পরতে পারে । 

-------------একই সাথে সেই ব্যক্তির ও খেয়াল রাখা উচিৎ , 

পোশাক প্রাচ্য - পাশ্চাত্য যাই হোক , তার প্রধান উদ্দেশ্য হলো 

নগ্নতা কে ঢাকা ।তাকে উৎসাহিত করা , কখনোই না ।

পোশাক এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । তবুও আশ্চর্য্য এটাই 

মানুষের জীবনের তিনটি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজে তার 

শরীরে কোনো পোশাক থাকে না ।

এক )  যখন সে জন্মায় ।

দুই) যখন সে মারা যাওয়ার পর দাহ হয় । 

তিন) যখন সে কারো সাথে যৌন মিলনে মিলিত হয় ।

টয়লেট আর অপারেশন থিয়েটারের কথা না হয় থাক ।

অনেক সময় অর্থাভাবে ও পোশাক থাকে না ।

গরিব শিশু পুজোর সময় শপিং মলের পাশে ফ্যালফ্যালে

দৃষ্টি নিয়ে চেয়ে থাকে । এ দৃশ্য ও বড় কষ্টের ও লজ্জার ।

সবার কাছে পোশাক থাকুক , তাই ই কাম্য ।

কারন পোশাক পরতে ই হয় । পোশাক পরা টা মহাভারত শুদ্ধ 

অশুদ্ধ এর মত বিষয় নয় ।বিষয় টি হল মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা

ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির অতি সুক্ষ ভারসাম্যের খেলা ।

Comments